নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
দেশের অর্থনীতি ও পোশাক খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাত বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। গত ১৫-২০ মাসে কোনো কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৫০টি মিল, যার ফলে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অন্তত ২ লাখ মানুষ। শিল্প মালিকদের মতে, ২২ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল খাত এখন ‘আইসিইউ’তে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রয়েছে এবং একে বাঁচাতে হলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারকে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “আমার পাঁচটি কারখানার মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমি হয়তো টেক্সটাইলবিহীন বিটিএমএ সভাপতি হয়ে যাব।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত যেখানে ৩ ঘণ্টায় নীতি নির্ধারণ করে, সেখানে আমাদের দেশে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গত এক বছরের কর্মকাণ্ডকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২৫০টি পোশাক কারখানা ও ৫০টি বস্ত্রকল বন্ধ হওয়া কি সফলতা?
সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, “এই সেক্টরকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচানোর সময় আর নেই। গত বাজেটে ট্যাক্স যেখানে ছিল ১২-১৫%, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭%। এটি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।” তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে সুতা বিক্রি করে যে টাকা আসে তা দিয়ে কেবল শ্রমিকদের বেতন ও গ্যাস বিল মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
বস্ত্রকল মালিকরা এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কিছু দাবি তুলে ধরেছেন:
৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত: খাতটিকে বাঁচাতে জরুরি নীতিগত সহায়তা।
ব্যাংকিং সুবিধা: বাংলাদেশ ব্যাংকে টেক্সটাইল খাতের জন্য আলাদা ‘উইন্ডো’ তৈরি এবং সুদের হার কমানো।
ভর্তুকি: সুতার প্রচ্ছন্ন ও সরাসরি রপ্তানিতে ১০% নগদ সহায়তা প্রদান।
জ্বালানি: গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং দাম কমানো।
ডাম্পিং প্রতিরোধ: ভারত থেকে কম মূল্যে সুতা ডাম্পিং বন্ধ করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার প্রমুখ। তারা সকলেই ঐক্যমতে পৌঁছেছেন যে, রাজনৈতিক সরকার আসার আগ পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই খাতকে রক্ষা করতে হবে